Posts

এমন কিছুর পেছনে না লাগা যার সম্পর্কে জ্ঞান নেই

Image
 'এমন কোন জিনিসের পেছনে লেগে যেয়ো না, যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দিল্ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।"  - সূরা বনী ইসরাঈল (আয়াত ১৩) আমাদের নিজেদের জীবনের দিকে তাকালেই এই আয়াতের অর্থটা বুঝা যাবে। আমাদের প্রতিদিনের কাজের একটা অংশ হচ্ছে আমরা যা জানি না, যা সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট নই তার পেছনে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করি। এটার একেবারে সহজ উদহারণ হলো সোস্যাল মিডিয়া। অপ্রয়োজনীয় গসিপ, বার্নিং ইস্যূ, সেলিব্রেটিদের লাইফস্টাইল, ইত্যাদি নানা ঘটনার পেছনে আমরা পড়ে থাকি। শুধু যে পড়ে থাকি তা নয়। বরং সেটার পেছনে এমনভাবে গবেষণা করি যেন আরেকটু হলেই একটা পিএইচডি ডিগ্রি পেয়ে যাবো।   তার বিপরীতে, কুরআন আমাদের বলছে যে আমরা বরং নিজেদের ব্যক্তিগত আর সামাজিক জীবনে ধারণা এবং অনুমানের পরিবর্তে 'জ্ঞানের' পেছনে চলবো। এই আয়াতের শিক্ষাকে প্রয়োগ করা হয়েছে ইসলামি নৈতিক ব্যবস্থায়, আইনে, রাজনীতিতে, দেশ শাসনে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিক্ষা ব্যবস্থায়। চলুন দেখি, এই আয়াতকে মূলনীতি ধরে কোন কোন ক্ষেত্রে কি ধরণের নীতি গ্রহন করা হয়েছে। নৈতিকতার ক্ষেত্রে - কুধারণা থেকে দূরে থাকো এবং কোন ব্...

নিজের ভাষায় মার্কেটিং- বইয়ের শিক্ষা কিভাবে কাজে লাগানো যায়

জনাব তৌফিকুর রহমান এর লেখা 'নিজের ভাষায় মার্কেটিং- মার্কেটিং এর মৌলিক বিষয় এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ' বইটি সম্পর্কে আগে একটু বলে নেই। আমার মতো অন্য ব্যকগ্রাইন্ডের যারা বিজনেস এ জড়িত বা এই রিলেটেড প্রফেশনে ঢুকে গিয়েছে, তাদের জন্য ব্যবসায়ের মৌলিক বিষয়গুলো জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কঠিন। কঠিন বলছি কারণ এগুলোর উপর সহজ ভাষায় বোঝার মতো রিসোর্স বেশি একটা নেই। সে দিক থেকে দেখলে এই বইটি বেশ চমৎকার। মার্কেটিং শুধুমাত্র যে 'মার্কেটিয়ার'দের জন্য প্রযোজ্য, ব্যাপারটা মোটেই এমন না। আপনি বিজনেসের যে কোন শাখাতেই বিচরণ করুন না কেন, মার্কেটিং বা বিপনন কৌশল আপনার লাগবেই। বিস্তৃত না হোক, অন্তত মৌলিক বিষয়গুলো ব্যক্তিগত অনেক পরিকল্পনা গ্রহনেও বেশ উপকারি। যাই হোক, বইটি পড়ার সময় যে বিষয়গুলো নোট করেছি সেগুলো এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পুরো লেখাটা একটি আর্টিকেলে না রেখে ভাগ ভাগ করে রাখার চিন্তা করেছি। এতে পড়তে সুবিধা হবে আশা করছি, ইনশা আল্লাহ। আর যে ব্যাপারটি শিরোনামে উল্লেখ করেছি, মানে এই বইয়ের আলোকে যে স্ট্রাটেজিগুলো আমরা আমাদের অনলাইন শপ এ কাজে লাগাতে পারি সেগুলোও এখানে আলোচনার ইচ্ছে আছে। এ...

Nostro, Vostro এবং Loro account

Nostro, Vostro এবং Loro শব্দগুলো ইতালিয়ান। Nostro মানে হলো 'Our' অথবা 'Our account with them'. Vostro মানে হলো 'your' অথবা 'your account with us'. আর Loro মানে হলো 'their'. এবার একটু বিস্তারিত দেখা যাক। আমরা যেমন আমাদের ব্যাংকে ব্যক্তিগত বা ব্যাবসায়িক একাউন্ট খুলতে পারি, তেমনি ব্যাংকগুলোও অন্য ব্যাংকে তাদের একাউন্ট খুলতে পারে। ধরুণ, বাংলাদেশের ব্যাংক B চায়নার ব্যাংক C কে ইউএস ডলারে পেমেন্ট করবে। এখন আমেরিকার ব্যাংক A তে বাংলাদেশের ব্যাংক B এবং চায়নার ব্যাংক C উভয়েরই ইউএস ডলারে একাউন্ট আছে। বাংলাদেশের ব্যাংক যখন আমেরিকার ব্যাংকে তাদের একাউন্টকে উল্লেখ করবে, তখন বলবে আমেরিকার ব্যাংক A তে আমাদের Nostro account আছে। একই ভাবে চায়নার ব্যাংক বলবে আমেরিকার ব্যাংক A তে আমাদের Nostro account আছে। আর এই দুই দেশের একাউন্টগুলোকে যখন আমেরিকার ব্যাংক উল্লেখ করতে চাইবে, তখন বলবে আমাদের এখানে বাংলাদেশের ব্যাংক B এবং চায়নার ব্যাংক C এর Vostro account আছে। তাহলে ব্যাপারটা হলো, একাউন্ট কিন্তু একটাই। সেটাকে কোন পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হচ্ছে সেটার উপর নীর্ভর করে ...

আপু ঠিকই বলেছেন, কিন্তু.........

Image
আপু ঠিকই বলেছেন। বাংলাদেশের ভার্সিটির চিপায়-চাপায় 'ইয়ে' টাইপের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভদ্র পাশ্চাত্যের কোন দেশের পথে ঘাটে কোন নোংরামি চোখে পড়বে না। সমস্যা হচ্ছে আমেরিকার National Criminal Justice Reference service বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে.. "Contrary to widespread belief, rape outdoors is rare. Over two thirds of all rapes occur in someone's home. 31% occur in the perpetrators' homes, 27% in the victims' homes and 10% in homes shared by the victim and perpetrator. 7% occur at parties, 7% in vehicles, 4% outdoors and 2% in bars. From 2000 to 2005, 59% of rapes were not reported to law enforcement. One factor relating to this is the misconception that most rapes are committed by strangers. তার মানে যা হয় ঘরের ভেতরেই হয়। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের পর্যাপ্ত বেড রুম বা লিটনের ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা থাকলে আমরাও চিপা-চাপায় এমন নোংরা/আপত্তিকর দৃশ্য দেখতাম না। তাই বলে কি আমেরিকাতে নারীর প্রতি সহিংসতা হয় না? National Organization for Women এর মতে '...Despite the fa...

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের নীরবতা

Image
ড. বার্ট গায়েন বিগত ২০১৭ সালের শেষ চার মাস খবরের শিরোনাম জুড়ে ছিলো রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদ। সংখ্যায় প্রায় ১০ লক্ষ এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস মায়ানমারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে অবস্থিত রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত এই রোহিঙ্গাদের মায়ানমার সরকার অবৈধ অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি সরকারিভাবে যে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে সেখানেও তাদের নাম নেই। সরকারিভাবে বাঙালি হিসেবে বিবেচিত এই রোহিঙ্গারা ইতিপূর্বেও বহুবার ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হয়ে বাস্তুভিটা থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং ১৯৭৮ সালে দুই লক্ষ, ১৯৯১-৯২ সালে আড়াই লক্ষ এবং ২০১২ সালে একলক্ষ চল্লিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা জনগণ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য ইতিপূর্বের এই জাতিগত বৈষম্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ খুব একটা আকর্ষন করতে না পারলেও গেলো ২০১৭ সালে মায়ানমান সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের উপর একাধিক সহিংস অভিযানের ফলে সংগঠিত গণহত্যা এবং জাতিগত নিমূলের মতো ঘটনার অভিযোগ উঠতে থাকলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মনোযোগ দেয় রোহিঙ্গা ইস্যূতে। বেশ কিছু কারণে অতীতের তুলনায় এখনকার এই সংকট আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি পর্যবেক্ষিত হচ্ছ...

ভয় পেও না, পৃথিবীটা শুধু কুকুরের নয়- মানুষেরও

রাত সাড়ে বারোটায় ‘মু’র টেক্সট - ‘আমার খুব ভয় হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে’। ভয় পেয়ে গেলাম, বাবুর কোন সমস্যা হলো কি? টেক্সটের রিপ্লাই দিলাম, "কি হয়েছে"? সাধারণত ওর চিন্তা ভাবনাগুলো বুঝতে পারি। ভালো লাগা, খারাপ লাগাগুলো কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু ও আমার প্রশ্নের প্রতিউত্তরে যা বল্লো, তা আমার কল্পনার ত্রীসীমাতেও আসেনি। ও বললো, ভারতের দিল্লিতে কিছুদিন আগে এগারো মাস বয়েসি এক মেয়ে শিশেুকে রেপ করা হয়েছে। এই নিউজটা দেখেই ও ভয় পেয়ে গেছে। সান্তনা দিয়ে বল্লাম, ভয় পেও না। ওটা একটা দুর্ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আতংকিত কন্ঠে বল্লো, আমারওতো একটা মেয়ে আছে যার বয়স আড়াই মাস। সাহস দেবার জন্য বললাম, এগুলো মানুষরুপী কুকুর, ভদ্রবেশী হিংস্র পশু। কিছু কুকুরের জন্য তুমি কেন ভয় পাবে? নিজের কথায় নিজেরই সন্দেহ হলো। সত্যি কি পশুর উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এখনো বজায় আছে? কতজন মনুষত্ব্য সম্পন্ন মানুষ আছে এই সমাজে? গণিতের সূত্রে কি আমাদের চারপাশে কতজন মানুষ আর কতজন কুকুর বাস করে বের করতে পারবো? ‘মু’কে বলা হয়নি, তিন মাস বয়সের শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের দায়ে পঞ্চাশ বছর বয়সের বৃদ্ধকে আজীবন জেল দিয়েছে আদালত। বললে হ...

দুইজন দয়ালু সেলসম্যান এবং একটি খারাপ মানুষ

রাস্তার মোড় ঘুরে আসার সময়ই ছেলেটি বৃদ্ধ লোকটিকে দেখতে পায়। আলো ঝলমলে মিষ্টির দোকানের ভেতর পরিপাটি করে সাজানো খাবারের দিকে তাকিয়ে আছেন বৃদ্ধ। গায়ের মলিন পোষাক দেখে বেশ বোঝাই যাচ্ছে তিনি এই দোকানের কাস্টমার নন। বৃদ্ধকে অতিক্রম করে আরো কিছুদূর এগিয়ে যাবার পরে ছেলেটি ভাবলো, আহারে বেচারা! মিষ্টির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অথচ ভেতরে ঢুকে কিনে খাবার সাধ্য নেই। খারাপ লাগারই কথা। ছেলেটি কি যেন চিন্তা করে ঘুরে দাঁড়াল। লোকটাকে একটা মিষ্টি কিনে দিলে কেমন হয়? বৃদ্ধ মানুষটি খুশিই হবে। ছেলেটি দোকানের সামনে ফিরে এসেছে। ততক্ষণে দোকানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন একজন সেলসম্যান। হাতের মোড়কে সাজানো দুটি মিষ্টি তুলে দিয়েছেন বৃদ্ধের হাতে। বৃদ্ধ এবং সেলসম্যান, দু’জনের মুখেই তখন পরম আনন্দের হাসি। এই মানুষটা চা বিক্রি করেন। মতিঝিলের এই এলাকায় তিনি ছোট একটা চায়ের দোকান চালান দীর্ঘ দিন ধরে। কাজের ফাঁকে দুপুরে দোকানের ভেতরই খেয়ে নেন। খাবার সময় একটা ব্যাপার তিনি অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য করছেন। তার আশে-পাশে বেশ কিছু বসার বেঞ্চ আছে। দুপুরে খাবার সময়টায় সেখানে কিছু রিক্সাওয়ালা এবং ভিক্ষুক বসে থাকে। বসে বসে যে কাঠ ফাটা দুপুরের...

কাজের বুয়া, সদ্য পাশ করা পোস্ট গ্রাজুয়েট এবং বিদেশি ডিগ্রিধারী ভাই

হিসেব করে দেখলাম, আমাদের বাসায় যে মহিলা কাজ করেন তার প্রতি মাসে আয় কমপক্ষে ১২-১৩ হাজার টাকা। আমাদের বাসাসহ আরো তিন বাসায় কাজ করে তিনি এই টাকা পান। কাজের ক্ষেত্রে তিনি আবার যথেষ্ট প্রফেশনাল। নিদির্ষ্ট তিন কাজের বেশি চার কাজ করবেন না। আবার সেই তিন কাজের কোনটা পরিমানে বেশি হলেও তিনি অসন্তুষ্ট হন। মোদ্দা কথা, এক ঘন্টার মধ্যে কোন রকমে তিনি তার যাবতীয় কাজ শেষ করে নেক্সট অফিসে, সরি নেক্সট বাসায় চলে যান। ওহ, কর্মক্ষেত্র থেকেই তিনি সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার যোগার করে নেন। সুতরাং, খাবারের পেছনে আর বাড়তি কোন খরচা করতে হয় না। এবার আমাদের অফিসে সদ্য মাস্টার্স পাশ করে জয়েন করা এক্সিকিউটিভের হিসেব করলাম। তার মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা। এই টাকায় তিনি ঢাকায় মেসে থাকেন, খাওয়া দাওয়া করেন, অফিসে যাতায়াত করেন, বাড়িতে টাকা পাঠান। মাস শেষে হাতে আদৌ কিছু থাকে কিনা সেই জানে। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে আসা পরিচিত আরেক ভাইয়ের কথা জানি। দেশে এসে তিনি এক এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। এই টাকায় তিনি কিভাবে চলেন সেই হিসেবটা বরং থাক। বাসায় কাজের মহিলা, সদ্য মাস...

যে টাকায় মিশে থাকে ঘৃণা আর অভিশাপ

সত্তরোর্ধ মানুষটি খোঁড়াতে খোঁড়াতে অফিসারের রুমে ঢুকলেন। তিনি বেশ চিন্তায় আছেন। গত কয়েক মাস ধরেই তার পানির বিল বেশি আসছে। হিসাবে তিনি যে পরিমাণ পানি খরচ করেন, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিল আসছে। ব্যাপারটা সমাধানের জন্যই এই মধ্য দুপুরে তার ওয়াসা অফিসে আসা। অফিসার তাকে সহজে ব্যপারটা বুঝিয়ে দিলেন। তার কথা হলো, 'আমরা তো আপনাদের সেবার জন্য এখানে বসেছি। তাহলে আর সমস্যা কি? ঘটনা হলো আপনার ওদিকে যিনি বিল করে তিনি অমুক দলের নেতা। তাছাড়া বুঝেনতো আরো ব্যাপার-স্যাপার আছে। যাই হোক, এটা কোন সমস্যাই না। আপনি কিছু খরচা-পাতি দিয়ে যান, তাহলে সামনের মাস থেকে বিল কম করে করবে। ' বৃদ্ধ ভদ্রলোক অফিসারের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তিনি মনে মনে হিসাব কষছেন, বিল বেশি আসলে সে টাকা পাবে সরকার। আর বিল কমিয়ে করলে লোকসান হবে সরকারের। আবার বিল বেশি আসলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে গ্রাহক। আর কম করলে লাভবাণ হবে 'ওয়াসা'র লোকজন। আবার কম বিল করাতে হলে গ্রাহককে খরচা-পাতি দিতে হবে যেটা পুরো অযৌক্তিক। কারণ তিনি যা খরচ করছেন তাইতো বিল দিবেন। বেশি কেনো দিবেন? আর সেখানে বেশি বিল- কম বিলের প্রশ্ন আসে কেনো? বেশি বিল দিলে তো...

ইলুমিনিটি- আমেরিকার স্থপতি ম্যাসন আর একচোখা 'দাজ্জাল'

Image
জনপ্রিয় ভ্রমন কাহিনী লেখক বুলবুল সারোয়ারে র 'স্বপ্নভ্রমন জেরুসালেম' বইটি পড়ছি মন্ত্রমুগ্ধের মত। জেরুসালেমের তীর্থস্থানের সীমানা ছাড়িয়ে লেখক ঐ স্থানের সাথে জড়িত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে তুলে এনেছেন অসাধারণ বর্ণনার ঢঙ্গে। এমনিতেই বুলবুল সারোয়ারের লেখা পড়লে মনে হয় আমিও বুঝি স্বশরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছি লেখকের সাথে। পড়তে পড়তে সামনে পেয়ে গেলাম ইলুমিনিটি শুরুর ঘটনা। ইলুমিনিটির সাথে জড়িত ম্যাসনদের ইতিহাস সম্পর্কে ঘাটতে গিয়ে এক বিরাট ধাক্কা খেলাম। নেট সার্ফিং করে জানা কিছু তথ্য খুব সংক্ষেপে এখানে উল্লেখ করলাম।  'স্বপ্নভ্রমন জেরুসালেম' বইটির কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা খুবই ইন্টারেস্টিং। আশা করছি সুযোগ পেলে অন্যদের সাথে শেয়ার করবো, ইনশা আল্লাহ। যেভাবে শুরু হলো ইলুমিনিটি হিরাম আবিফের রূপকথা পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী গুপ্ত-রহস্য। টায়ারের রাজা হিরামের কাছে যখন নবী সোলেমান (আ:) তার উপাসনালয় গড়ার জন্য সাহায্য চান- তখন বিধবার পুত্র (আবিফ) হিরামকে পাঠান রাজা হিরাম। তার নির্মাণ দক্ষতা ছিল সীমাহীন। বলা হয়- স্বর্ণের সাথে রৌপ্য ও লৌহ; পাথরের সাথে কাঠ এবং রত্ন; গোলাপির সাথে নীল কিংবা কাপড়ের ভাঁজ...

The Alchemist- স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা

Image
The Alchemist বইটা পড়েছেন? না পড়লে পড়ে ফেলুন। একজন মানুষের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করার জন্য যতগুলো ভালো বই পড়া প্রয়োজন- The Alchemist তার মধ্যে অন্যতম। একদম বাড়িয়ে বলছি না। সময় করে পড়ে ফেলুন। এরপর বুঝবেন, একজন লেখক কতটা গভীরভাবে মানুষের জীবনবোধকে তুলে আনতে পারে। কতটা সহজ ভাষায় পাঠকের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়- তুমি ঠিক কি কারণে কখনোই সফল হতে পার না। খুব আপসোস হচ্ছে, বইটা যদি ছাত্রজীবনে পড়ার সুযোগ পেতাম। বিশেষ করে যখন স্কুলে পড়ি বা আরও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে - তখন এমন একটা বই হয়তো দৃষ্টিভঙ্গিটাকে বদলে দিত। আরও অনেক বিষয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত গ্রহনে সাহায্য করত। যা হবার তাতো হয়েই গেছে। এটাকে বরং বইয়ের 'ইংলিশম্যানের' মতো করে বলি, 'তাও ভালো যে এটা এখন পড়তে পেরেছি। এমনওতো হতে পারত যে এটা আরো দশ বা পনের বছর পরে পড়ার সুযোগ পেতাম। অথবা কখনোই পেতাম না। এটা কি বিরাট ব্যাপার না? 'মানুষ কেন সফল হয়?' অথবা 'মানুষ কেন তার গন্তব্যে পৌঁছুতে পারে না'? উহু। এটা ফুটপাতে 'আপনিও সফল হবেন', 'সাফল্য লাভের একশ উপায়', 'সহজে কোটিপতি হবার কৌশল' - এ টাইপের কিছু না...

দু:খিত, ভাস্কর্য নয়- ওটা রোমান দেবী জাস্টিসিয়া

আমরা সমঝোতা নয়, বিভেদ পছন্দ করি। বিভেদ হলেই হবে তর্ক, বিতর্ক- পাওয়া যাবে অন্যের উপরে নিজেকে বড় প্রমাণের সুযোগ। অথবা প্রতিপক্ষের উপর একহাত নেওয়া যাবে। আর অতি বুদ্ধিমানরা বিতর্ক তৈরী করে গোপনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আদায় করতে। আর এক শ্রেণীর মানুষ আছে কোন কারণ ছাড়াই অন্যের সাথে ঝামেলা বাঁধাবে- ঝগড়া করবে। জানি না, এমন কারো মাথা থেকেই মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের সামনে নারী মূর্তি স্থাপনের বুদ্ধি বের হয়েছে কিনা!! ব্যাপারটা চিন্তা করে বলুন তো, যখন কোন ধর্ম- নারীদের মুখ, চেহারা ঢেকে রাখতে বলে, তখন সেই ধর্ম হয়ে যায় গোঁড়া। নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এর দোষে আক্রমণের স্বীকার হয় সে ধর্ম। আবার সেই ধর্মকে নিয়ে কটুক্তিকারীরা যখন নারীর চোখ-মুখ বেঁধে হাতে ধারালো তরবারি আর দাঁড়ি পাল্লা ধরিয়ে দেয় তখন সেটা হয়ে যায় ন্যায় বিচারের প্রতীক!!! এটা কি ডাবল স্টান্ডার্ড হলো না? আবার  নারীর হাতে দেওয়া হলো তরবারি!!! স্টেনগান বা বন্দুক থাকলে বুঝতাম আমাদের মহান মুত্তিযুদ্ধের সাহসী যোদ্ধাদের রূপক প্রতিনিধি এই নারী। বুঝলাম তার হাতের দাঁড়িপাল্লা দিয়ে সে ন্যায় বিচার করবে। কিন্তু তরবারি কেনো? তরবারি দেখলে তো হানাহানি-রক্তারক্...

জাহিদ সাহেবকে একজন লোভী ডাক্তার না বলে জঙ্গি ডাক্তার বল্লে কি প্রতিবাদ করতেন?

প্রশ্নপত্রে যদি এমন লিখতো, 'জাহিদ সাহেব একজন জঙ্গি ডাক্তার। তিনি উগ্রবাদী দলের সাথে যুক্ত থেকে মানুষকে মারার পরিকল্পনা করেন....' তাহলে চিকিৎসক সংগঠনগুলো কি বলতো এই প্রশ্নে ডাক্তারদের ঢালাওভাবে জঙ্গি বলে হেয় করা হয়েছে? চিকিৎসকরা 'ফেরেশতা' একথা অনেক চিকিৎসকই দাবী করবেন না। মানুষে র মধ্যে কি ভালো-খারাপ নাই? তাহলে ভালো চিকিৎসক থাকলে খারাপ চিকিৎসক থাকবেনা কেনো? এটা নিয়ে তাদের হইচই নেহায়েতই 'ট্রাম্পিয়' আচরণ। প্রশ্নপত্রে বলে নাইযে, 'অন্যান্য ডাক্তারদের মতোই জাহিদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার'। অথবা, 'জাহিদ সাহেব দ্রুত বাড়ি-গাড়ি করতে চান কারণ তিনি ডাক্তার'। অথবা, 'ডাক্তাররা জাহিদ সাহেবের মতো লোভী হয়'। স্পস্টই বলা হয়েছে, 'জাহিদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার'। এখানে ব্যাক্তি জাহিদ সাহেব লোভী, ডাক্তার জাহিদ সাহেব নয়। ব্যাক্তিকে লক্ষ্য করে কথাগুলো বলা। এখন এই ব্যক্তি জাহিদ সাহেব ব্যবসায়ী হতে পারতেন, শিক্ষক হতে পারতেন, সরকারী কর্মকর্তা হতে পারতেন, পুলিশ হতে পারতেন..........ইত্যাদি ইত্যাদি। তার 'লোভ' তার ব্যক্তিগত সমস্যা। তার মধ্যে নৈতিক মূল...

মানুষকে দেখানোর জন্যই আমরা দেনমোহর নির্ধারণ করি

মেয়েটিকে নিয়ে ছেলেটি তার বন্ধুর বাসায় পালিয়ে এসেছে বিয়ে করার জন্য। দীর্ঘদিনের প্রেম অথচ পরিবার এই বিয়েতে রাজি নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত। বিয়ের আয়োজন তাৎক্ষণিকভাবে যা করা সম্ভব তাই করা হয়েছে। যথাসময়ে কাজী উপস্থিত। ছেলের বন্ধুরাও অনেকে আছে। বিয়ে পড়ানো শুরু হতেই মেয়েটি হঠাৎ বেঁকে বসলো। দেনমোহর ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) বা তার বেশি না হলে সে বিয়ে করবে না। মেয়েটির এমন আচরণে অন্যরা বেশ বিরক্তই হলো। এটা কেমন কথা? এতোদিন রিলেশন করে পালিয়ে এসেছে বিয়ে করার জন্য। এমন সময় এমন আজব গোঁ ধরার মানে কি? তাছাড়া এতোগুলো টাকা কি মুখের কথা নাকি? অন্যদিকে ছেলেটি মেয়েটির কথা শুনে সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে কাজীকে বল্লো, দেনমোহর ৫০,০০০,০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ টাকা!!!), আপনি বিয়ে পড়ান। শুনে কি মনে হচ্ছে? ছেলে বিরাট কোটিপতি? জ্বি না। এককালে তার বেশ ভালো ব্যবসা বাণিজ্য থাকলেও বর্তমানে বেকার। বাসা ভাড়া দিতেও কষ্ট হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এতোদিন সম্পর্ক করে বিয়ের সময় মেয়েটি এমন দাবী কেনো করলো আর ছেলেটিই বা এমন আজব অংকের টাকা কেনো প্রস্তাব করলো। একটু চিন্তা করলেই উত্তরটা পাওয়া যাবে। পুরো ব্যাপারটায় মেয়েটি এবং ছেলেটি- উভয়ই তাদের প্রেস্টিজ...

Do you have a computer? Its time for Bioinformatics

Ahamed Ismail Hossain Just imagine a scenario that you are in a hurry to get a new protein 3-D structure or to find out a drug binding site. But you can't neither invest a lot of money to have it nor can't consume huge time. Don't worry, there is a exciting alternative for you. You can produce a protein 3-D structure, identify a drug binding site, find out a specific gene/RNA/protein sequence by writing few program on your computer and gets the result within a very short time that scientists had been trying to discover for years. But you are doing the job just using few programs, tools and software. Do you know the difference between 'Dry lab' & 'Wet lab'? Dry lab helps us to reduce our time consumption, reduces expenditure of million dollars and years long effort in a research project. What I told you to imagine is a part of dry lab. Our traditional laboratories where chemicals, drugs or other materials or biological matters are handled in liquid s...

কাশফুল

Image
বিকেলের নরম বাতাস কাশফুলগুলোকে ছুঁয়ে যাচ্ছে । পেছনের ধূসর আকাশের পটভূমিতে সাদা সাদা কাশফুল দেখে মনে হয়, কোন শিল্পীর পরম মমতায় আঁকা নৈসর্গিত ছবি। আফতাব নগরের বিস্তৃর্ণ জায়গাজুড়ে কাশফুলেদের রাজত্ব। ছবি তোলার জন্য জায়গাটা চমৎকার। অথবা পড়ন্ত বিকেলে হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাবার জন্য। কালো পিচ ঢালা সরু রাস্তার দু’ধারে সাদা রঙ্গের ফুল। এমন রাস্তা ধরে হাঁটতেই ভালো লাগে। মনে হয় জীবনের জটিল হিসেব-নিকেশকে দূরে ঠেলে এই সাদার রাজত্বে একাকার হয়ে যাই। জায়গাটা এতো সুন্দর যে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। অথচ কতবার এখানে আসার জন্য ‘মু’ বায়না ধরেছে। যাবার জন্য সময়ই করে উঠতে পারিনি। আজ চলে এলাম। বিকেল হলেই এখানে প্রকৃতি প্রেমী মানুষের ভিড় বাড়ে। নগরের ব্যস্ততা আর কোলাহলে ক্লান্ত মানুষ কিছুটা স্বস্থির জন্য এমন প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চায়। ইট পাথরের শহরে ছোট ছোট কাশফুলগুলো এখনো যে কনক্রিটের নীচে চাপা পড়েনি, এটাই বিরাট বিষয়। কতদূর থেকে মানুষ আসে এখানে! অথচ ওদের বাসা থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে এই ফুল দেখতে যাবো বলে কতদিন অপেক্ষা করে ছিলাম। দু’জনে হাত ধরে হেঁটে বেড়িয়েছি অনেক দূর। দু’চোখ ভরে দেখেছি শুভ্র ...

পূঁথি পাঠের আসর

সন্দীপনের উৎসবের ব্রুশিয়র থেকে- "আমাদের চিরায়ত লোক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পূঁথি পাঠ। পূঁথি আমাদের গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐহিত্যকে ধারণ করে। এক সময়ের জনপ্রিয় পূঁথি পাঠ আজ নগর সংস্কৃতির প্রবল জোয়ারে বিলুপ্তের পথে। অথচ এই পূঁথি এক সময়ে ছিলো গ্রাম্য বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সময়ের পরিক্রমায় আমরা ইতিহাস ভুলে যাই। আমাদের নিজেদের শেঁকড় থেকে ধীরে ধীরে সরে যাই সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে। আমাদের প্রয়োজন ইতিহাস চর্চার। ইতিহাস চর্চার ও তার উপস্থাপনের প্রয়োজনীতাকে বিবেচনা করেই এই ‘পূঁথি পাঠের আসর’ নামক নাটকের রচনা। নাটকের গতানুগতিক ধারার বাহিরে গিয়ে আমাদের শত বছরের ঐহিত্য পূঁথি পাঠকে কেন্দ্র করেই এই নাটকের ঘটনা প্রবাহ। এর উপাদান নেয়া হয়েছে ইতিহাস থেকে। প্রতিটি চরিত্র ঐতিহাসিক। সংলাপ এবং পূঁথি পাঠের সম্মিলনে ইতিহাস যেনো জীবন্ত হয়ে ওঠে চোখের সামনে। গ্রাম্য বৃদ্ধ পূঁথি পাঠক তার শ্রোতাদের এই বাংলা স্বাধীন হবার গল্প শোনান পূঁথি র মাধ্যমে। তার গল্পের শুরু হয় বৃটিশদের বাণিজ্য তরী নিয়ে এই সবুজ, শ্যামলা, সৃমদ্ধশালী বাংলায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্য নিয়ে আগমনের মাধ্যমে। ধীরে বাংলার শেষ স্বাধীন...

কিছু সাহসের ছত্র

১. আমরা দিনের শেষ রশ্নি দেখে অজানা প্রভাতের স্বপ্ন বুনি, হেরে যাবো না বলেই পথে নেমেছি, ঐ দূর বিজয়ের মন্ত্র শুনি। ২. নিজের সাথে আজ নিজের লড়াই, কে করে ফেলে আসা দিনের হিসাব? জানি এই পথ শেষে আলোকিত ভোর নিকশ কালো মেঘে ঢাকুক আকাশ। ৩. সময়ের লেনা-দেনা ছোট ছোট ক্ষণ অবসাদ-বিষাধে যদি ঢাকে মন, যেনে রেখো বন্ধু তুমি একা নও আরো দৃঢ় করে নাও এ মনের পণ।

Darkness and Ray

Dreamless, darkness Fades further, Dreams of darkness Reality is harder. Dreams are darkness What is life’s ride? Slowly opening her eyes She smiles and says: Life is a fight. ....Samia A. স্বপ্নহীন, অন্ধকার ধীরে ধীরে কমে ঔজ্জ্বলতা, অন্ধকারের স্বপ্ন, কঠিন সে বাস্তবতা। স্বপ্নই অন্ধকার, জীবনের গন্তব্য কোনখানে? ধীরে মেলে তার চোখ মেয়েটি হেসে বলে, যুদ্ধ’ই জীবনের মানে। When my dreams and mind, Covered by darkness The reality of life, Play with mirage in shades. And that very time Didn’t lose my belief, The path is long and I’m alone I knew there is relief. Now the shadows of sadness Are fading and faraway, Though looking for the Meaning of life, But now it’s full of ray. যখন আমার স্বপ্ন এবং মন অন্ধকারে ছেয়ে যায়, জীবনের বাস্তবতা, মরীচিকার সাথে ছায়াতে খেলে যায়। আর সেই সে সময়ে, হারাইনি আমার বিশ্বাস পথ বহুদূর এবং একাকী আমি জানতাম, আছে মুক্তির আশ্বাস। এখন দু:খের প্রতিচ্ছবিরা ম্রিয়মান এবং বহুদূরে, যদিও খুঁজে ফিরি জীবনের মানে কিন্তু এখন তা প...

আমি কুকুর ও মানুষের পার্থক্য করতে শিখেছি

সরকারী হলুদ দালান, তার সামনে জড়ো হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। একাধিক দাবী-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও ঘন্টা খানেকের মধ্যে তা ‘এক দফা-এক দাবী’তে পরিণত হয়। সমস্যা হলো, অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও এই এক দফা দাবীটা যে কি, সেটাই বুঝতে পারি নাই। প্রথমে তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘আমাদের দাবী মেনে নাও- মানতে হবে মেনে নাও’। শীতের সকালের আমেজ কেটে বাড়ছে রোদের উত্তাপ। রোদের গরমেই কিনা কে জানে, তারা তখন স্লোগান দিতে লাগলো ‘অমুকের গদীতে, আগুন জ্বালো এক সাথে’। আন্দোলনকারীরা পত্রিকা বিছিয়ে রোদ পোহাতে পোহাতে বাদাম চিবুচ্ছিলেন আর শ্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা কষ্ট করে উঠে কারো গদিতে আগুন লাগাবে এমন কোন লক্ষণ দেখা গেলো না। বক্তব্য দিতে দিতে নেতার গলায় মনে হয় স্ক্র্যাচ টাইপ কিছু হয়েছে। কথা কেমন ফেটে ফেটে বের হচ্ছে। এরপরেও নিকট ভবিষ্যতে তিনি বক্তব্য থামাবেন বলে মনে হলো না। বেলা বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে আন্দোলনের উত্তাপ। এমনিতেই আমরা জাতি হিসেবে আন্দোলন প্রিয়। দাবী আদায় হলো কি হলো না, সেটা বড় কথা না। কাজ-কর্ম বন্ধ করে আন্দোলন করাতেই আমাদের বিরাট আনন্দ। তো, কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতা ঘোষনা দিলেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে রোবব...