Posts

Nostro, Vostro এবং Loro account

Nostro, Vostro এবং Loro শব্দগুলো ইতালিয়ান। Nostro মানে হলো 'Our' অথবা 'Our account with them'. Vostro মানে হলো 'your' অথবা 'your account with us'. আর Loro মানে হলো 'their'.

এবার একটু বিস্তারিত দেখা যাক।

আমরা যেমন আমাদের ব্যাংকে ব্যক্তিগত বা ব্যাবসায়িক একাউন্ট খুলতে পারি, তেমনি ব্যাংকগুলোও অন্য ব্যাংকে তাদের একাউন্ট খুলতে পারে।

ধরুণ, বাংলাদেশের ব্যাংক B চায়নার ব্যাংক C কে ইউএস ডলারে পেমেন্ট করবে। এখন আমেরিকার ব্যাংক A তে বাংলাদেশের ব্যাংক B এবং চায়নার ব্যাংক C উভয়েরই ইউএস ডলারে একাউন্ট আছে। বাংলাদেশের ব্যাংক যখন আমেরিকার ব্যাংকে তাদের একাউন্টকে উল্লেখ করবে, তখন বলবে আমেরিকার ব্যাংক A তে আমাদের Nostro account আছে। একই ভাবে চায়নার ব্যাংক বলবে আমেরিকার ব্যাংক A তে আমাদের Nostro account আছে। আর এই দুই দেশের একাউন্টগুলোকে যখন আমেরিকার ব্যাংক উল্লেখ করতে চাইবে, তখন বলবে আমাদের এখানে বাংলাদেশের ব্যাংক B এবং চায়নার ব্যাংক C এর Vostro account আছে।

তাহলে ব্যাপারটা হলো, একাউন্ট কিন্তু একটাই। সেটাকে কোন পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হচ্ছে সেটার উপর নীর্ভর করে বলা হয় …

আপু ঠিকই বলেছেন, কিন্তু.........

Image
আপু ঠিকই বলেছেন। বাংলাদেশের ভার্সিটির চিপায়-চাপায় 'ইয়ে' টাইপের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভদ্র পাশ্চাত্যের কোন দেশের পথে ঘাটে কোন নোংরামি চোখে পড়বে না। সমস্যা হচ্ছে আমেরিকার National Criminal Justice Reference service বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে.. "Contrary to widespread belief, rape outdoors is rare. Over two thirds of all rapes occur in someone's home. 31% occur in the perpetrators' homes, 27% in the victims' homes and 10% in homes shared by the victim and perpetrator. 7% occur at parties, 7% in vehicles, 4% outdoors and 2% in bars. From 2000 to 2005, 59% of rapes were not reported to law enforcement. One factor relating to this is the misconception that most rapes are committed by strangers. তার মানে যা হয় ঘরের ভেতরেই হয়। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের পর্যাপ্ত বেড রুম বা লিটনের ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা থাকলে আমরাও চিপা-চাপায় এমন নোংরা/আপত্তিকর দৃশ্য দেখতাম না।



তাই বলে কি আমেরিকাতে নারীর প্রতি সহিংসতা হয় না? National Organization for Women এর মতে '...Despite the fact t…

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের নীরবতা

Image
ড. বার্ট গায়েন

বিগত ২০১৭ সালের শেষ চার মাস খবরের শিরোনাম জুড়ে ছিলো রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদ। সংখ্যায় প্রায় ১০ লক্ষ এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস মায়ানমারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে অবস্থিত রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত এই রোহিঙ্গাদের মায়ানমার সরকার অবৈধ অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি সরকারিভাবে যে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে সেখানেও তাদের নাম নেই। সরকারিভাবে বাঙালি হিসেবে বিবেচিত এই রোহিঙ্গারা ইতিপূর্বেও বহুবার ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হয়ে বাস্তুভিটা থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং ১৯৭৮ সালে দুই লক্ষ, ১৯৯১-৯২ সালে আড়াই লক্ষ এবং ২০১২ সালে একলক্ষ চল্লিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা জনগণ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য ইতিপূর্বের এই জাতিগত বৈষম্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ খুব একটা আকর্ষন করতে না পারলেও গেলো ২০১৭ সালে মায়ানমান সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের উপর একাধিক সহিংস অভিযানের ফলে সংগঠিত গণহত্যা এবং জাতিগত নিমূলের মতো ঘটনার অভিযোগ উঠতে থাকলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মনোযোগ দেয় রোহিঙ্গা ইস্যূতে।



বেশ কিছু কারণে অতীতের তুলনায় এখনকার এই সংকট আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি পর্যবেক্ষিত হচ্ছে। প্রথ…

ভয় পেও না, পৃথিবীটা শুধু কুকুরের নয়- মানুষেরও

রাত সাড়ে বারোটায় ‘মু’র টেক্সট - ‘আমার খুব ভয় হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে’। ভয় পেয়ে গেলাম, বাবুর কোন সমস্যা হলো কি? টেক্সটের রিপ্লাই দিলাম, "কি হয়েছে"?

সাধারণত ওর চিন্তা ভাবনাগুলো বুঝতে পারি। ভালো লাগা, খারাপ লাগাগুলো কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু ও আমার প্রশ্নের প্রতিউত্তরে যা বল্লো, তা আমার কল্পনার ত্রীসীমাতেও আসেনি।

ও বললো, ভারতের দিল্লিতে কিছুদিন আগে এগারো মাস বয়েসি এক মেয়ে শিশেুকে রেপ করা হয়েছে। এই নিউজটা দেখেই ও ভয় পেয়ে গেছে। সান্তনা দিয়ে বল্লাম, ভয় পেও না। ওটা একটা দুর্ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আতংকিত কন্ঠে বল্লো, আমারওতো একটা মেয়ে আছে যার বয়স আড়াই মাস। সাহস দেবার জন্য বললাম, এগুলো মানুষরুপী কুকুর, ভদ্রবেশী হিংস্র পশু। কিছু কুকুরের জন্য তুমি কেন ভয় পাবে?

নিজের কথায় নিজেরই সন্দেহ হলো। সত্যি কি পশুর উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এখনো বজায় আছে? কতজন মনুষত্ব্য সম্পন্ন মানুষ আছে এই সমাজে? গণিতের সূত্রে কি আমাদের চারপাশে কতজন মানুষ আর কতজন কুকুর বাস করে বের করতে পারবো? ‘মু’কে বলা হয়নি, তিন মাস বয়সের শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের দায়ে পঞ্চাশ বছর বয়সের বৃদ্ধকে আজীবন জেল দিয়েছে আদালত। বললে হয়তো…

দুইজন দয়ালু সেলসম্যান এবং একটি খারাপ মানুষ

রাস্তার মোড় ঘুরে আসার সময়ই ছেলেটি বৃদ্ধ লোকটিকে দেখতে পায়। আলো ঝলমলে মিষ্টির দোকানের ভেতর পরিপাটি করে সাজানো খাবারের দিকে তাকিয়ে আছেন বৃদ্ধ। গায়ের মলিন পোষাক দেখে বেশ বোঝাই যাচ্ছে তিনি এই দোকানের কাস্টমার নন। বৃদ্ধকে অতিক্রম করে আরো কিছুদূর এগিয়ে যাবার পরে ছেলেটি ভাবলো, আহারে বেচারা! মিষ্টির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অথচ ভেতরে ঢুকে কিনে খাবার সাধ্য নেই। খারাপ লাগারই কথা। ছেলেটি কি যেন চিন্তা করে ঘুরে দাঁড়াল। লোকটাকে একটা মিষ্টি কিনে দিলে কেমন হয়? বৃদ্ধ মানুষটি খুশিই হবে।

ছেলেটি দোকানের সামনে ফিরে এসেছে। ততক্ষণে দোকানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন একজন সেলসম্যান। হাতের মোড়কে সাজানো দুটি মিষ্টি তুলে দিয়েছেন বৃদ্ধের হাতে। বৃদ্ধ এবং সেলসম্যান, দু’জনের মুখেই তখন পরম আনন্দের হাসি।


এই মানুষটা চা বিক্রি করেন। মতিঝিলের এই এলাকায় তিনি ছোট একটা চায়ের দোকান চালান দীর্ঘ দিন ধরে। কাজের ফাঁকে দুপুরে দোকানের ভেতরই খেয়ে নেন। খাবার সময় একটা ব্যাপার তিনি অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য করছেন। তার আশে-পাশে বেশ কিছু বসার বেঞ্চ আছে। দুপুরে খাবার সময়টায় সেখানে কিছু রিক্সাওয়ালা এবং ভিক্ষুক বসে থাকে। বসে বসে যে কাঠ ফাটা দুপুরের …

কাজের বুয়া, সদ্য পাশ করা পোস্ট গ্রাজুয়েট এবং বিদেশি ডিগ্রিধারী ভাই

হিসেব করে দেখলাম, আমাদের বাসায় যে মহিলা কাজ করেন তার প্রতি মাসে আয় কমপক্ষে ১২-১৩ হাজার টাকা। আমাদের বাসাসহ আরো তিন বাসায় কাজ করে তিনি এই টাকা পান। কাজের ক্ষেত্রে তিনি আবার যথেষ্ট প্রফেশনাল। নিদির্ষ্ট তিন কাজের বেশি চার কাজ করবেন না। আবার সেই তিন কাজের কোনটা পরিমানে বেশি হলেও তিনি অসন্তুষ্ট হন। মোদ্দা কথা, এক ঘন্টার মধ্যে কোন রকমে তিনি তার যাবতীয় কাজ শেষ করে নেক্সট অফিসে, সরি নেক্সট বাসায় চলে যান। ওহ, কর্মক্ষেত্র থেকেই তিনি সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার যোগার করে নেন। সুতরাং, খাবারের পেছনে আর বাড়তি কোন খরচা করতে হয় না।

এবার আমাদের অফিসে সদ্য মাস্টার্স পাশ করে জয়েন করা এক্সিকিউটিভের হিসেব করলাম। তার মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা। এই টাকায় তিনি ঢাকায় মেসে থাকেন, খাওয়া দাওয়া করেন, অফিসে যাতায়াত করেন, বাড়িতে টাকা পাঠান। মাস শেষে হাতে আদৌ কিছু থাকে কিনা সেই জানে।

বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে আসা পরিচিত আরেক ভাইয়ের কথা জানি। দেশে এসে তিনি এক এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। এই টাকায় তিনি কিভাবে চলেন সেই হিসেবটা বরং থাক।

বাসায় কাজের মহিলা, সদ্য মাস্টার…

যে টাকায় মিশে থাকে ঘৃণা আর অভিশাপ

সত্তরোর্ধ মানুষটি খোঁড়াতে খোঁড়াতে অফিসারের রুমে ঢুকলেন। তিনি বেশ চিন্তায় আছেন। গত কয়েক মাস ধরেই তার পানির বিল বেশি আসছে। হিসাবে তিনি যে পরিমাণ পানি খরচ করেন, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিল আসছে। ব্যাপারটা সমাধানের জন্যই এই মধ্য দুপুরে তার ওয়াসা অফিসে আসা।

অফিসার তাকে সহজে ব্যপারটা বুঝিয়ে দিলেন। তার কথা হলো, 'আমরা তো আপনাদের সেবার জন্য এখানে বসেছি। তাহলে আর সমস্যা কি? ঘটনা হলো আপনার ওদিকে যিনি বিল করে তিনি অমুক দলের নেতা। তাছাড়া বুঝেনতো আরো ব্যাপার-স্যাপার আছে। যাই হোক, এটা কোন সমস্যাই না। আপনি কিছু খরচা-পাতি দিয়ে যান, তাহলে সামনের মাস থেকে বিল কম করে করবে। '

বৃদ্ধ ভদ্রলোক অফিসারের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তিনি মনে মনে হিসাব কষছেন, বিল বেশি আসলে সে টাকা পাবে সরকার। আর বিল কমিয়ে করলে লোকসান হবে সরকারের। আবার বিল বেশি আসলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে গ্রাহক। আর কম করলে লাভবাণ হবে 'ওয়াসা'র লোকজন। আবার কম বিল করাতে হলে গ্রাহককে খরচা-পাতি দিতে হবে যেটা পুরো অযৌক্তিক। কারণ তিনি যা খরচ করছেন তাইতো বিল দিবেন। বেশি কেনো দিবেন? আর সেখানে বেশি বিল- কম বিলের প্রশ্ন আসে কেনো? বেশি বিল দিলে তো …