Posts

Showing posts with the label প্রবন্ধ

ভয় পেও না, পৃথিবীটা শুধু কুকুরের নয়- মানুষেরও

রাত সাড়ে বারোটায় ‘মু’র টেক্সট - ‘আমার খুব ভয় হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে’। ভয় পেয়ে গেলাম, বাবুর কোন সমস্যা হলো কি? টেক্সটের রিপ্লাই দিলাম, "কি হয়েছে"? সাধারণত ওর চিন্তা ভাবনাগুলো বুঝতে পারি। ভালো লাগা, খারাপ লাগাগুলো কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু ও আমার প্রশ্নের প্রতিউত্তরে যা বল্লো, তা আমার কল্পনার ত্রীসীমাতেও আসেনি। ও বললো, ভারতের দিল্লিতে কিছুদিন আগে এগারো মাস বয়েসি এক মেয়ে শিশেুকে রেপ করা হয়েছে। এই নিউজটা দেখেই ও ভয় পেয়ে গেছে। সান্তনা দিয়ে বল্লাম, ভয় পেও না। ওটা একটা দুর্ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আতংকিত কন্ঠে বল্লো, আমারওতো একটা মেয়ে আছে যার বয়স আড়াই মাস। সাহস দেবার জন্য বললাম, এগুলো মানুষরুপী কুকুর, ভদ্রবেশী হিংস্র পশু। কিছু কুকুরের জন্য তুমি কেন ভয় পাবে? নিজের কথায় নিজেরই সন্দেহ হলো। সত্যি কি পশুর উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এখনো বজায় আছে? কতজন মনুষত্ব্য সম্পন্ন মানুষ আছে এই সমাজে? গণিতের সূত্রে কি আমাদের চারপাশে কতজন মানুষ আর কতজন কুকুর বাস করে বের করতে পারবো? ‘মু’কে বলা হয়নি, তিন মাস বয়সের শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের দায়ে পঞ্চাশ বছর বয়সের বৃদ্ধকে আজীবন জেল দিয়েছে আদালত। বললে হ...

কাজের বুয়া, সদ্য পাশ করা পোস্ট গ্রাজুয়েট এবং বিদেশি ডিগ্রিধারী ভাই

হিসেব করে দেখলাম, আমাদের বাসায় যে মহিলা কাজ করেন তার প্রতি মাসে আয় কমপক্ষে ১২-১৩ হাজার টাকা। আমাদের বাসাসহ আরো তিন বাসায় কাজ করে তিনি এই টাকা পান। কাজের ক্ষেত্রে তিনি আবার যথেষ্ট প্রফেশনাল। নিদির্ষ্ট তিন কাজের বেশি চার কাজ করবেন না। আবার সেই তিন কাজের কোনটা পরিমানে বেশি হলেও তিনি অসন্তুষ্ট হন। মোদ্দা কথা, এক ঘন্টার মধ্যে কোন রকমে তিনি তার যাবতীয় কাজ শেষ করে নেক্সট অফিসে, সরি নেক্সট বাসায় চলে যান। ওহ, কর্মক্ষেত্র থেকেই তিনি সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার যোগার করে নেন। সুতরাং, খাবারের পেছনে আর বাড়তি কোন খরচা করতে হয় না। এবার আমাদের অফিসে সদ্য মাস্টার্স পাশ করে জয়েন করা এক্সিকিউটিভের হিসেব করলাম। তার মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা। এই টাকায় তিনি ঢাকায় মেসে থাকেন, খাওয়া দাওয়া করেন, অফিসে যাতায়াত করেন, বাড়িতে টাকা পাঠান। মাস শেষে হাতে আদৌ কিছু থাকে কিনা সেই জানে। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে আসা পরিচিত আরেক ভাইয়ের কথা জানি। দেশে এসে তিনি এক এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। এই টাকায় তিনি কিভাবে চলেন সেই হিসেবটা বরং থাক। বাসায় কাজের মহিলা, সদ্য মাস...

পূঁথি পাঠের আসর

সন্দীপনের উৎসবের ব্রুশিয়র থেকে- "আমাদের চিরায়ত লোক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পূঁথি পাঠ। পূঁথি আমাদের গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐহিত্যকে ধারণ করে। এক সময়ের জনপ্রিয় পূঁথি পাঠ আজ নগর সংস্কৃতির প্রবল জোয়ারে বিলুপ্তের পথে। অথচ এই পূঁথি এক সময়ে ছিলো গ্রাম্য বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সময়ের পরিক্রমায় আমরা ইতিহাস ভুলে যাই। আমাদের নিজেদের শেঁকড় থেকে ধীরে ধীরে সরে যাই সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে। আমাদের প্রয়োজন ইতিহাস চর্চার। ইতিহাস চর্চার ও তার উপস্থাপনের প্রয়োজনীতাকে বিবেচনা করেই এই ‘পূঁথি পাঠের আসর’ নামক নাটকের রচনা। নাটকের গতানুগতিক ধারার বাহিরে গিয়ে আমাদের শত বছরের ঐহিত্য পূঁথি পাঠকে কেন্দ্র করেই এই নাটকের ঘটনা প্রবাহ। এর উপাদান নেয়া হয়েছে ইতিহাস থেকে। প্রতিটি চরিত্র ঐতিহাসিক। সংলাপ এবং পূঁথি পাঠের সম্মিলনে ইতিহাস যেনো জীবন্ত হয়ে ওঠে চোখের সামনে। গ্রাম্য বৃদ্ধ পূঁথি পাঠক তার শ্রোতাদের এই বাংলা স্বাধীন হবার গল্প শোনান পূঁথি র মাধ্যমে। তার গল্পের শুরু হয় বৃটিশদের বাণিজ্য তরী নিয়ে এই সবুজ, শ্যামলা, সৃমদ্ধশালী বাংলায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্য নিয়ে আগমনের মাধ্যমে। ধীরে বাংলার শেষ স্বাধীন...

পোষাক শিল্পে গন্ডগোল, আমি কি ভাবছি?

খুব সকালে যখন আমরা হয়তো সবে ঘুম থেকে উঠবো উঠবো করছি ততক্ষণে শত শত পোষাক শ্রমিকের ব্যস্ত যাত্রা শুরু হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌছানোর জন্য। তারা যাচ্ছে রাস্তা বাম দিয়ে, ডান দিয়ে, মধ্য দিয়ে। দৃশ্যটা একেবারে সাধারণ । জেমসের ভাষায় এই পোষাক শ্রমিকেরা সেলাই দিদিমণি। যদিও দাদাভাইও আছে বেশ কিছু। সকালে সূর্য উঠবে, এটা যেমন আবহাওয়া পূর্বাভাস না শুনেই বলা যায়, তেমনি সাত-সকালে এই সেলাই দিদিমণিরা হাতে একটা টিফিন ক্যারিয়ার ধরে ছুটতে ছুটতে কাজে যাবে, এটাও তাদের জীবনের প্রাত্যহিক ঘটনা । এই মেয়েগুলো র বেশিরভাগই ছুটে আসে গ্রাম বা মফস্বল থেকে। তুলনামূলক একটু ভালো থাকার জন্য। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তারা তাদের পরিবারকে তাদের উপার্জন থেকে সহায়তা করে। তারা হেন করে, তারা তেন করে...ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটামুটি ছোট বেলায় মুখস্ত করা টোকাই, ফেরিওয়ালা, রিক্সা চালক বা এমন কারও উপরে লিখা নিরেট বইয়ের ভাষার রচনা। সত্যি বলতে পোষাক কারখানা বা তৈরী পোষাক নিয়ে আমার মত সাধারণ মানুষের কোন কালেই খুব বেশি আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু ইদানিং, আরেকটু সহজ করে বললে ...